পোস্টগুলি

বিশেষ পোস্ট

ওয়ারলক — উইলবার স্মিথের ইতিহাস বলা

কাহিনীসংক্ষেপ “ওয়ারলক” এক তরুণ মিশরীয় ফারাও এবং তার যাদুকরী ক্ষমতাসম্পন্ন বিজ্ঞ মেন্টরের গল্প, তাদের বিশ্বাসঘাতক ক্ষমতা দখলকারীর কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার গল্প। মিশরের তরুণ ফারাও নেফার ও তার গুরু টাইটা। হিকসসদের মিশর জয়ের সময়কার কথা। মিশরের এ দুই অংশের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে নেফারকে অধিষ্ঠিত হতে হলে, তাকে এ দুই গোষ্ঠীকে একত্রিত করার পাশাপাশি, তার নিজেরই গৃহশত্রুর সাথে লড়ে যেতে হবে। 
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, টাইটার সাথে নেফার গডবার্ড শিকারে গেছে। কিন্তু গডবার্ড শিকারটা দেখানো একটা বিষয়মাত্র। টাইটার রাজার সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল নাজা দ্য কোবরাকে সন্দেহ হয়। তার এ সন্দেহ সত্যে পরিণত হয়, যখন নাজা নেফারের বাবাকে খুন করে এর দোষ হিকসসিয়ানদের উপর চাপিয়ে দেয়। তার যাদুশক্তিবলে টাইটা মূল ঘটনা জানতে পারে এবং নাজার হাত থেকে নেফারকে বাঁচাতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু, ধূর্ত নাজা নিজেকে রয়াল এজেন্ট হিসেবে ঘোষনা দেয় এবং নেফারকে খুঁজতে সৈন্য পাঠায়। 
নিজের ক্ষমতাকে পাঁকাপোক্ত করতে নাজা নেফারের ছোট দুবোনকে বিয়ে করে এবং হিকসসী রাজা আপেপির সাথে চুক্তিতে আসে। তবে পরবর্তীতে সে তার ভাই ট্রকের সাথে মিলিত হয়ে পুরো আপ…

ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন ও হ্যাকার সংস্কৃতি

শুরুটা একটা গল্প দিয়ে করি। এসএসসির পর আমি আর রিয়াদ কম্পিউটার কোর্স( মাইক্রোসফট অপিস) করতে একটা কোচিঙে ভর্তি হয়। গ্রামে থাকায় কম্পিউটার নিয়ে সে আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। রিয়াদের ধারণা ছিলো, কম্পিউটার কোন হঠাৎ আবিষ্কার, কোন  অসম্ভব অমানবীয় সৃষ্টি। আমার কাছে কম্পিউটার কেস ছিলো ছোট জাদুর বাক্স, অদ্ভুত সব বিষয় করে ফেলতে পারার এক সব কাজের কাজী। অবিশ্বাস্য বিষয়গুলোতে মুগ্ধ হয়ে আমরা জানতামই না, আসল জাদু অই ছোট্ট বাক্সে না, আসল জাদু লুকিয়ে আছে আমাদের মানবীয় ক্ষমতাতেই, মানবের মস্তিষ্ক প্রসূত ছোট ছোট প্রোগ্রামে। একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার কেস খোলা পর্যন্ত জাদুর বাক্সই হয়ে থাকলো তা আমাদের কাছে, যার ভেতর অবরুদ্ধ কোন অজানা শক্তি, অবরুদ্ধ জ্ঞান। 
৬০ এর দশকে এমআইটিতে নতুন একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠলো। আধুনিক কম্পিউটিঙের অনেক মহাপুরুষ অবস্থান যখন সেখানে। নতুন কিছু করা, সমস্যার নতুন সমাধান, নতুন এ চমৎকারিত্বের নাম দিলো তারা হ্যাকিং। কম্পিউটিংকে তারা নিয়ে গেলো নতুন এক দিগন্তে, জানালো, You can create art and beauty on a computer। পার্সোনাল কম্পিউটিঙের এ স্বর্ণযুগেরও অনেক আগে তারা বললো, Computers can change your life…

দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সি এর পাঠ পর্যালোচনা

ছবি
বিশাল সমুদ্রে একাকীত্ব, হতাশা, ক্লান্তি, ঘুম, নিজের মন আর এক মারলিন মাছের সাথে এক বৃদ্ধ জেলে সান্তিয়াগোর যুদ্ধের উপাখ্যান বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে হয়ে উঠলো জীবনযুদ্ধের এক প্রতীকি গল্প। বইটির লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বইটি প্রকাশের (১৯৫২) পরের বছর (১৯৫৩) পান পুলিৎজার পুরস্কার, আর তার পরের বছর (১৯৫৪) পান সাহিত্যে নোবেল। পড়ে শেষ করলাম আরনেস্ট হেমিংওয়ের ১২৭ পৃষ্ঠার বিখ্যাত সৃষ্টি "দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সি"। সান্তিয়াগো এক বৃদ্ধ, জৌলুস হারানো এক জীবনযোদ্ধার নাম, কিউবার উপসাগরের এক অভিজ্ঞ জেলে। একসময় বড় মাছ ধরার জন্যে ও তার শক্তিমত্তার জন্যে বেশ নাম কুড়োলেও, বয়সের সাথে সব হারিয়ে গেছে। মাছ ধরতে পারেন না আগের মত। ৮৪ দিন টানা ধরতে পারেননি কোন মাছ। তার এ বিপদের সময় তার সাথে এসে দাঁড়ায় তার পুরোনো সাগরেদ ম্যানোলিন। মা-বাবার নিষেধাজ্ঞায় বুড়োর সাথে মাছ ধরতে যেতে না পারলে, বুড়োর অন্নসংস্থান বা দেখাশুনো করে পরিবারেরই কোন সদস্যের মত। ৮৫ তম দিনে আত্মবিশ্বাসী জেলে ঠিক করেন, এবার তিনি মাছ ধরেই ছাড়বেন। নৌকা টেনে নিয়ে যান, গভীর থেকে গভীর সমুদ্রে। বড়শিতে ধরাও খায় ১৮ ফুটের এক বিশাল মারলিন মাছ। গল্…

বুদ্ধদেব বসুর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ

ছবি
রবীন্দ্রনাথের পর তার মতন এমন বিপুল ও বিস্তৃত সৃষ্টিসম্ভার কারও নেই। বিচিত্র পথে, বিচিত্র ধারায় তিনি লিখেছেন। এমন একজন লেখক, যাকে পড়তে পড়তেও কখনও একঘেয়েমি আসে না, বিরক্তি ধরে যায় না। রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় (কোন অর্থে, কোন মানদণ্ডে আমার জানা নেই) সমালোচক বলা হয় তাকে। গদ্যের ক্ষেত্রে বলা যায়, তার গদ্য সরল সহজ, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সুরে লেখা। বুদ্ধদেব বসু একই সাথে রবীন্দ্র-পরবর্তী সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের অন্যতম অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকও।  বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুর পরে বিরামবাবুর সম্পাদনায় বেরোই বুদ্ধদেব বসুর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ সংকলন। মূখবন্ধ লিখেন তার স্ত্রী প্রতিভা বসূ। সর্বমোট ১১টি প্রবন্ধে সংস্কৃত, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রপরবর্তী সাহিত্যের প্রয়োজন ও বিকাশ, বাংলা শিশুসাহিত্যসহ তার ব্যক্তিগত অনেক অভিজ্ঞতা, স্মৃতির কথা এখানে এসেছে।  আমার কাছে বুদ্ধদেব বসুর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ সংকলন অবশ্যই এটি নয়। তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে এমন সুন্দর ও গভীর আলোচনা আপনি বাংলা সাহিত্যে খুব কমই পাবেন।

আলেকজান্ডার সিক্রেট : ডয়েলের লেখায় মহাভারতের আরেক রহস্য

ছবি
মহামতি আলেকজান্ডারকে নিয়ে জড়িয়ে আছে রহস্যের পর রহস্য, আছে অনেক কল্পকাহিনী, আলেকজান্ডার রোমান্স যা পরিচিত। তার অনেকাংশের সাথে অধিকাংশ ইতিহাসবিদ একমত না হলেও, কিছু রহস্য এখনও কোন সমাধানে পৌঁছায়নি বা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি সবাই।  আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমনের এমনই এক রহস্যমাখা গল্প ক্রিস্টোফার ডয়েলের দ্বিতীয় উপন্যাস আর মহাভারত কোয়েস্ট সিরিজের দ্বিতীয় গল্প দ্য আলেকজান্ডার সিক্রেটের ভিত। দ্য মহাভারত কোয়েস্ট থেকে কাহিনী পরম্পরাই আসে এ গল্প, প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে।  বায়োটেরিরিজমের সাথে লড়তে গিয়ে ইন্ডিয়ান ইন্টিলিজেন্স ব্যুরো খুঁজে পায় হাজার বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এক অমৃতের, তার জড়িত থাকা এক গোপন সংঠনের। নাম অর্ডার, নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষায় বা লক্ষ্য পূরণে কিছু করতেই যারা পিছপা হয় না। ইমরান কীরবাঈ, এলিস, রাধা, কলিন আর শুকলা যখন জেনে যায় সে মিশনের কিছু তথ্য, অর্ডারের দৃষ্টিতে পড়ে তারা। সেখান থেকেই গল্প শুরু। 
উপন্যাসের থিমটি বেশ আকর্ষনীয়। ইতিহাস, আর থ্রিলের সংমিশ্রনে মন ফেরানো কষ্টকর হয়ে যাবে পাঠকের জন্যে। প্রথমদিকে আলাদা আলাদা গল্পে একটু সংশয়ী হয়ে উঠলেও, কিছুদূর যাওয়ার পরেই পাওয়া যায় তাদের মধ্যে সংয…

অরিত্রিকে আমি যেভাবে দেখি

ছবি
আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় অভিশাপগুলোর একটা স্মার্টফোন। এর বিস্তৃত ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকটি এর প্রধান সুবিধা এবং প্রধান সমস্যা। তবুও সবদিক বিবেচনায় আমরা অল্প-বিস্তর স্মার্টফোন ব্যবহারে বাধ্য। স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয় দিক বিবেচনায় নিয়ে ঠিক কত বছর বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া যাবে তার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। যেহেতু এটি সবসময় ক্ষতিকর, তাই বিবেচনায় নেয়া যায়, এটি কতটুকু প্রয়োজন। স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে যায়েয-নাযায়েযের প্রশ্ন থাকলেও, পরীক্ষার হলে যে তার কোন নৈতিক প্রয়োজন নেই, তা তর্কাতীত বিষয়। একজন শিক্ষার্থী থেকে এমন আচরণ যেমন কাম্য নয়, তেমনই এমন আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সে শাস্তি কতটা হবে বা শাস্তির মাত্রায় আত্মহত্যা যৌক্তিক হয়ে যায় কি না, তা নিয়ে আবার অনেকে তর্ক জড়াবেন। সে তর্ককে একপাশে রেখে বরং এ ক্ষোভের উৎস কোথায় তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। সন্তানকে তথাকথিত ভাল ইস্কুলে পড়ানোর মত সামর্থ্য খুব কম বাবা-মায়েরই থাকে। তথাকথিত অধিকাংশ বেসরকারি ভাল ইস্কুলে পড়ার মত মেধা বা আর্থিক সামর্থ্য নেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। স্বীকার করি বা না করি, একটা গোপন আক্ষেপ বা ক্ষোভ আমাদের কিন্তু থেকে যায়।…

চুল বড় কবি-রাজ

ছবি
চুল বড় রাখা, ঢোলা শার্ট পড়া, ঢলঢলে পাঞ্জাবি-পাজামা পড়ে চলা, মেয়ে দেখলে তোতলানো, মানুষের সাথে মিশতে না পারা এগুলো কোন জন্মগত উপহার নয়, একপ্রকার অক্ষমতা/ভ্রান্তি/দূর্বলতা আমাদের। নৈতিক অনুমোদন বা মোরাল লাইসেন্সিং করে এর সাথে আমরা আমাদের প্রযুক্তি জ্ঞান, সাহিত্য প্রতিভা বা অন্য শৈল্পিক গুণাবলিকে আমরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করি। ভাল লিখতে পারলে যে ভালভাবে কারও সাথে মেশা হা'রাম হয়ে যায়, আমার থেকে মনে হয় এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একশ্রেণির মানুষ নিজেকে বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন ও কোন বিশেষ শ্রেণির লোক ভাবে। এরা কারও সাথে মিশবে না, এদের চালচলনে একটা কৃত্রিম উদ্ভটামি থাকবে, সাধারণ মানুষ যা করে এরা তার কিছুই করবে না। কিন্তু এখানে ব্যাপার হচ্ছে, এ বিষয়সমূহ এবং পড়ালেখায় দূর্বলতা, কথা বলার অক্ষমতা, সবার সাথে মিশতে না পারার বিষয়গুলোকে তারা প্রতিভারই একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভাবে। 
মিশতে না পারার অক্ষমতা আমি বলছি না কারও দোষ। কেউ মিশতে নাই পারে ভাল। অগোছালো চালচলনের পেছনে আর্থিক দীনতা বা ভুলো মনা মানসিকতা দায়ী থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই না যে, নিজের ভাল দিককে এ দূর্…

যেসব কারণে আমি চুল কাটি না

ছবি
তাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও অবসর ভাবনায় নতুন সংযোজন আমার কুন্তল। তাদের কেউ এ কুন্তলের সাথে বামরাজনীতির সখ্য খুঁজে পান, কারও মনে হয় কুন্তলের গোড়ায় নিহিত নাস্তিক্যবাদের সঞ্জিবনী শক্তি, কারও আবার হিংসে হয় এ কুন্তলের দৈর্ঘ্য না জানি তার কুন্তলেরটাকে হারিয়ে ফেলে, কারও হয় আবার ভয়, কেউ না আবার চুল দেখে না করে ফেলে সংশয়। কুন্তল আমার, সেসব ভাবনা থেকে স্বাধীন, সমস্ত আলোচনা থেকে মুক্ত, রোজ সকালে আধছটাক নারিকেল তেলসহযোগে জলমর্দনেই সে তৃপ্ত। রবীঠাকুর এমনই কোন কুন্তলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে আজ থেকে একশো বছর আগে লিখেছিলেন— উড়ে কুন্তল, উড়ে অঞ্চল, উড়ে বনমালা বায়ুচঞ্চল।

আমাকে দেখলেই তাবলিগের ভাইয়ের চেহারা মলিন হয়ে যায়। আড়চোখে চুলের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেমন ভয়ঙ্কর জায়গা, ভিন্ন পথে যাওয়ার কত দুয়ার খোলা ও কতটুকু সম্ভাবনা সেটার। আমাকে দেখে বন্ধু তার নতুন শেখা শব্দ "বাম"-এর সফল প্রয়োগে তৃপ্তির হাসি হাসে, হলে না উঠলে তুই বামই হইতি, বামদের মত বড় চুল, বড় দাঁড়ি। আমার ছবি দেখে দীর্ঘদিন অদেখা প্রেমিকা চুল কেন কাটি না সে নিয়ে দীর্ঘ ভর্তসনা দেয়, সে ভর্তসনায় লুকিয়ে থাকে, ভয়…

যেসব কারণে আমরা সফল না

ছবি
আমরা হতাশ হয়ে যাই, কারণ সফলতার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আমরা দাঁড় করাতে পারিনি। কতটুকুতে বা কীসে তৃপ্ত হবো, তার কোন সীমানা নির্ধারণ করিনি আমরা। আমরা তৃপ্ত হতেই শিখিনি আসলে। তাই প্রত্যাকের সফলতাকে আমাদের নিজেদের ব্যর্থতা বলে ভ্রম হয়।  একটা সুন্দরী প্রেমিকা থাকা কখনও আমাদের কাছে সফলতা, কখনও সফলতা পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করা, ছবিতে বেশি মন্তব্য পাওয়া থেকে শুরু করা আলোচনায় নিজেকে বেশি জ্ঞানী প্রমাণ পর্যন্ত আমাদের অতৃপ্তির বিস্তৃতি। ঠিক যে মুহূর্তে অন্য কেউ সফল হয়, সে মুহূর্তেই আমাদের মধ্যে অতৃপ্তি কাজ করে। দেখা যায়, কোন একটা বন্ধু বিতর্কে ভাল করলো, কেউ ভাল ইংরেজি বলে, কেউ ভাল ছবি আঁকে, তাদের কোন বিষয়ে সফলতার সংবাদ আমরা হজম করতে পারি না। মাছের কাঁটার মত গলায় বিধে থাকে। সহযোগী, সহপাঠির সাফল্যে যেখানে উদযাপনের কথা, আনন্দ পাওয়ার কথা, আমরা সেখানে ব্যস্ত থাকি এ কথা ও কথায় নিজের ঈর্ষা চেপে যেতে।  
অথচ যে দিনের পর দিন ছবি এঁকে যায়, সে জানে না,জানার প্রয়োজন মনে করে না তার আঁকার হাত নিয়ে কেউ হয়তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ বা তার ভাল আঁকার হাতই অনেকগুলো বন্ধুর তাকে এড়িয়ে চলার কারণ। সে জানে না, সে জানতে চায় না। কার…

রেডিওমুন্নার সাহিত্য সংস্কৃতি

ছবি
পৃথিবীতে দুধরণের লেখক  আছে, যারা রেডিওমুন্নায় লিখে আর যারা রেডিওমুন্নায় লিখে না। বাংলাসাহিত্যের ফেসবুক পরবর্তী ধারাকে নতুন এক মোড় দিয়েছে এ রেডিওমুন্না প্রকাশনা। কল্লোল যেমন নতুন এক সময়ের সূচনা করেছিলো বাংলা কবিতায়, রেডিওমুন্না তেমনই নতুন এক যুগের সূচনা করেছে বাংলা ছোটগল্পে।  রেডিওমুন্না মূলত একটি পত্রিকা, ফেসবুক পত্রিকা। জনাব মুন্না এর সম্পাদক। বিভিন্ন যাদুকরী কাজকারবারের সংবাদ পৃথিবীর সামনে উন্মুক্তের সাথে সাথে নতুন সাহিত্যিকদের জন্যে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়াসহ সত্য পথের পথিক পত্রিকার সমস্ত দায়িত্ব পালন করে তারা। হালাল উপায়ে প্রেম করার অভিনব সব পদ্ধতি নিয়ে আসা সম্ভবনাময় অনেক তরুণ-তরুণীকে রেডিওমুন্নার হাত ধরে উঠে দেখা যায় পরবর্তীতে অধিকাংশই নিজেদের ‘রোমান্টিক গল্পের সংকলন’, ‘প্রেম ও ভালবাসার গল্প’ নামে ফেসবুক সাহিত্যপ্রকাশনী খুলে বসে আছে। 
রেডিওমুন্না লেখকসমাজের অধিকাংশই তরুণ এবং তাদের একগুচ্ছ তরুণী ভক্ত থাকে। তরুণীভক্তদের অধিকাংশ আবার কলেজপড়ুয়া, প্রেমুন্মুখ, রোমান্টিক মানসিকতার ষোড়শী, কুমারী, যাদের ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে আবশ্যিকভাবে পুতুল বা বাচ্চার ছবিসহযোগে ‘কিউট, নাইস, তোমার মত কিউত…

ওপেন সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা

ছবি
ওপেন সিকিউরিটি বা মুক্ত নিরাপত্তা বিষয়টি প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতিটিই আমূলে পালটে দিয়েছে। প্রযুক্তির উদ্দেশ্য যে কখনই সহজতর হওয়া ছিলো না, তা আমরা অনেকদিন বুঝিনি বা আমাদের বুঝতে দেয়া হয়নি। নিজ হাতে খেতে না শিখলে আপনি আজীবনই ভুগবেন। অন্যে খাইয়ে দিবে, কি খাওয়াচ্ছে তাও প্রশ্ন থেকে যায়। ব্যবহারকারী কখনও গর্ধব নয়, আর সফটওয়্যার নির্মাতারা ব্যবহারকারীকে গর্ধব ভাবতে থাকলে, তারা গর্ধবই ভাবতে থাকবে নিজেদের। এখানেই আসে ওপেন সিকিউরিটির বিষয়টি, ব্যবহারকারী নিজে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হতে হবে, আগের সিকিউরিটি থ্রো অবসিকিউরিটির দিন এখন নেই। এখানেই গ্নু/লিনাক্সের কার্যকারিতা, আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিবেন, কি ব্যবহার করবেন, কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন, আপনি দেখছেন আপনার কম্পিউটার কি করছে, আপনি কি করছেন, কি চাচ্ছেন!
আর ফ্রি সফটওয়্যার মানে কখনও এটা নয়, সফটওয়্যারটি কিনতে হবে না। ফ্রি সফটওয়্যার মানে, সফটওয়্যারটির কোড দেখার, পরিবর্তনের স্বাধীনতা আপনি রাখেন।

সুনীল সাইফুল্লাহর দুঃখ ধরার ভরা স্রোতে

ছবি
কাব্যগ্রন্থঃ দুঃখ ধরার ভরা স্রোতেলেখকঃ সুনীল সাইফুল্লাহ 
প্রকাশকঃ আনন্দম


সুনীল সাইফুল্লাহকে চিনেন না, এমন সাহিত্যপাঠকের সংখ্যা নির্মলেন্দু গুণপড়া সাহিত্যপ্রেমীদের চেয়ে বেশি। না চেনার উপযুক্ত কারণও আছে। সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ, ও অনন্যসাধারণ মেধাকে অবহেলা করে সাইফুল্লাহ আত্মহনন করেন ১৯৮১ সালে। তখন তিনি বিবাহিত, ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। রেখে যান একটি পাণ্ডুলীপি। সে পাণ্ডুলীপি প্রকাশিত হয়েছে এতদিন পর।
কবিতা পড়ে জানা যায়, তার এ আত্মহত্যা ছিলো পূর্বপরিকল্পিত। কবিতায় তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, 
সবুজ পায়রার হৃৎপিণ্ড চিবিয়ে খেয়েঠিক তিন বছর পর আমি আত্মহত্যা করে যাবো।
এত প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বারবার কবিতায় যে মৃত্যুর কথা বলেছেন, তা বিস্ময়কর—
চলে যাবার সীমারেখায় আজ বৃত্তায়িত সবকিছু,আর একটু ভালো করে দেখে নিই আকাশ, সূর্যাস্ত-সুরনিথর পানা পুকুর, বৃত্তায়িত আনন্দস্বরূপা উন্মোচিত রাজারপুর খেলাঘরে কার কন্ঠহারপড়ে আছে নিরবধিকালসেই পরিচিত খুঁজে খুঁজে শেষাবধি আজ দাঁড়াতে হবে পুনর্বার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ মেধাবী ছাত্রটির পরিবার-পরিজন সম্পর্কে বেশিকিছু আর জানা যায় না। তার পরিচিতের সংখ্যা কম…

হুমায়ূন আহমেদ, সস্তা?

ছবি
ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সফল; সফলতার মাপকাঠি যদি জনপ্রিয়তা হয়। লেখার নিজস্ব একটা ধরণ ছিলো তার, স্বকীয় সংলাপ গঠন, সুক্ষ্ম রসবোধ, ও তার ভাষায় ‘আচানক’ কাহিনী বলা। হিমু, মিসির আলী, শুভ্রের মত জনপ্রিয় চরিত্রগুলো ছাড়াও, তার অধিকাংশ চরিত্রকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়। ঘুরে ফিরে তাদের সবার আচরণই অনেকটা একইরকম, মেয়েদের মায়া মায়া চেহারার বর্ণনাও যেমনটা একইরকম। অনেক বেশি লেখার ফলে এমনটা হয়েছে, এটা বলা অযৌক্তিক, রবীন্দ্রনাথ বা বুদ্ধদেব বসুদের সৃষ্টিসংখ্যা ও সৃষ্টিবৈচিত্র দুটোই সমৃদ্ধ। যদি অনেক বেশি লেখার ফলে এটা হয়ও, হিমু ও একটি রাশিয়ান পরি ঘরানার লেখার জন্যে কেউ তাকে নিশ্চয়ই মাথায় পিস্তল চেপে বাধ্য করেনি। 
 হুমায়ূন আহমেদ পড়ার শুরুটা আমার হয় হিমু দিয়ে, হিমুর রূপালী রাত্রি। হিমুর রূপালী রাত্রি হিমু ধারার বইগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় বলা যায়। কিনে পড়ি, হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম। হুমায়ূন আহমেদের সুক্ষ্ম রসবোধ, ও হিমুর উদ্ভট আচরণের কারণে বয়সের দোষে আমি চরিত্রটার প্রেমে পড়ে যায়। সে সময় হুমায়ূন আহমেদ বেশ পরিচিত নাম, খ্যাতির তূঙ্গে তিনি। পরিচিত সবার মুখে তার …

ব্র‍্যান্ড লয়্যালিটি, আরেক অসুস্থতা

ছবি
কোন পণ্য ক্রয় করা হয় প্রয়োজনে। প্রয়োজন কতটুকু মেটাবে, তার স্থায়িত্ব কতদিন হবে, কোন পণ্য ক্রয়ের সময় এসবই বিবেচ্য বিষয়। ক্রয়ের সময় পণ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন দুসাধ্য। এমতাবস্থায় আমরা কোন একটি ব্র‍্যান্ডের পণ্য ক্রয় করি, যেসব পণ্য কিনে আমার মত একই প্রয়োজন ও পছন্দের মানুষ পূর্বে সন্তুষ্ট হয়েছে। আস্থা অর্জন করা এসব ব্র‍্যান্ড সাধারণ পণ্যের দামের সাথে আস্থার মূল্যও যোগ করে প্রাইজ ট্যাগ বসিয়ে দেয়। এ বাড়তি মূল্য কতটা নৈতিক, বিষয়টা আপেক্ষিক। ক্রেতা হিশেবে আপনার প্রয়োজন, অর্থের পরিমাণ, বোধজ্ঞান, ও বুদ্ধিবৃত্তি সিদ্ধান্ত নিবে কিছুটা বেশি অর্থ দিয়ে আপনি পণ্যটি কিনবেন নাকি কিনবেন না!
মানুষের ভিন্ন রূচি, ভিন্ন প্রয়োজন, ভিন্ন আর্থিক সামর্থ্যকে লক্ষ্য করে ভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য বাজারে রয়েছে। রয়েছে ভিন্ন ব্র‍্যান্ড। আস্থার অর্থমূল্যও এসব ব্র‍্যান্ডে ব্র‍্যান্ডে ভিন্ন। নির্দিষ্ট একটি ব্র‍্যান্ড যখন আমাদের আস্থা অর্জন করে, বা কোনভাবে মননে মগজে তাদের বিজ্ঞাপনী সাফল্যে স্থান করে নিতে, ব্র‍্যান্ড লয়্যালিটির জন্ম হয়। ব্র‍্যান্ডগুলো তখন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যসব বিষয়ের মত, নিজেকে বড় …

পাঠ্যবইয়ের জগত আমার

ছবি
পাঠ্যবই কখনও জ্ঞানের উৎস ছিলো না। পাঠ্যবইয়ে যা লেখে, ইস্কুলে আমাদের যা পড়ায়, তার সাথে বাস্তবতা বিশাল ফারাক। যে কৃত্রিম স্বপ্নজালের ভেতর আমরা আবদ্ধ, তার অন্যতম মূখ্য উপাদান পাঠ্যবই। জ্ঞান মানে তথ্য না। বিশ্লেষিত তথ্য। একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও একজন দার্শনিকের মূল পার্থক্যের জায়গা তাদের চিন্তন ক্ষমতা, ভাবার গভীরতা। জানাটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, পড়াটা অবশ্যই চালিয়ে যেতে হয়। অধ্যয়ন এ চিন্তনপ্রক্রিয়া গাইডলাইন হিশেবে কাজ করে। তাই আমরা যা পড়ছি, সে রাস্তা ধরেই আমাদের চিন্তনপ্রক্রিয়া এগুই। এবং আমাদের অধিকাংশেরই আগ্রহের বিষয়বস্তু নির্ধারণ হয় পাঠ্যবইয়ের উল্লেখ্য বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে।
তার মানে পাঠ্যবই আমাদের সবার চিন্তাধারাকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ করে ফেলে। একটি খুটি গেঁড়ে আমাদের গলায় দড়ি বেঁধে দেয়। আমরা চাইলেও একটা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে আর যেতে পারি না। আর যারা সে চেষ্টাটুকুওু না করে বসে বসে বিনামূল্যের ঘাস চিবোয় তাদের কথা বাদই দিলাম। সে পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে, যারা  নিজের জায়গা থেকে দূরে যেতে চায়, এর বাইরে ভাবতে চায় তাদের চিন্তাধারাও কিন্তু অল্প বা বেশিহোক অই “পাঠ্যবই বিষয়বস্তু” দ…

সন্দ্বীপে অস্ত্র তৈরীর কারখানা ও কিছু কথা

ছবি
এ অঞ্চলের ছেলেদের কাছে কৈশোর মানে ছিলো, নদী-জল-ভ্রমণ-খেলা-আকাশ। ইস্কুল পালানো, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া, এক গলা জলের ডোবায় মাছ ধরা, সাইকেল নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, শীত এলে এ টুনামেন্ট, সে টুনামেন্ট। সে অতীত। কিশোরদের কোমড়ে এখন গুজা থাকে ছুরি, রিভালভার, পিস্তল। ইয়াবায় আচ্ছন্ন তাদের কৌশোর। সন্দ্বীপে অস্ত্র তৈরির কারখানার এ সংবাদ যা ঘটছে, যা ঘটতে যাচ্ছে, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে এ শংকা শুধু কিছুটা বাড়িয়ে দিলো। ২০১৩-১৪, এ বয়সটা যখন আমরা পার করছিলাম। শুরুটা তখন। এর আগেও সন্ত্রাস ছিলো। খুনাখুনি হতো। চাঁদাবাজী হতো। জলদস্যূ-ভূমিদস্যূ ছিলো। অন্যসব গ্রামের মত, ফুটবল খেলার জের ধরে দশবিশজন আহত হওয়ার ঘটনাও ছিলো। তবে সন্ত্রাসীদের মাঝে আর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশাল এক ফারাক ছিলো। এসব খুনোখুনির মধ্যে থেকেও অস্ত্র দেখেছে সামনে, এমন মানুষও কম ছিলো। রূপকথার মত তাই আমরা সেসব ডনদের কথা শুনতাম, খুনের গল্প শুনে শিহরে উঠতাম। কিন্তু মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে বড় হয়ে এগুলোকে অবহেলাই করে যেতাম। পরপর কয়েকবার র‍্যাবের আক্রমণে এসব দস্যূদের ক্ষমতা কমে এলো ২০১৫-১৬ এর দিকে। উড়িরচর, জাহাইজ্জার চরসহ পাশের কিছু দ্বীপের মানুষ প্রথম শান্…

কবিতা-কি ভীষন মন খারাপ তোমার

ছবি
কি ভীষন মন খারাপ!
কাজলের দাগ গাঢ় হয়ে আসে;
পূবের ঘর, তোমার আঁধারের দখলে।
প্রণয়স্মৃতির ছায়া জেঁকে বসে।   

কতদিন কথা হয় না।
পুরোনো কথায় আমায় ফেরো খুঁজি?
একা একা থাকার এসব সময়
আমায় ভীষণ মনে পড়ে বুঝি?

শূন্যতা কি ভয়াবহ! 
গ্রুলে ঝুলে থাকে কোমল কবিতা
রোদের গায়ে পাখা তারা চাপে
আঙুল ছুয় কাব্যিক অসাড়তা। 

দূরত্ব কি বিশাল!
ভুল ঠিকানা লিখো তুমি খামে।
ভুলে যাও, ভুলে গেছো, ভুলোমনা!
মনে হলে তবু, ডেকো ডাকনামে।


গ্নু/লিনাক্স কি?

ছবি
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাগারের কম্পিউটারগুলো নিয়ে বন্ধুদের একরাশ অভিযোগ, “আরে কিছু করা যায় নাকি এগুলো দিয়ে! এর চেয়ে বরং অ্যাপলের ল্যাপটপ(ম্যাকবুক)-ই ভাল(!)।” অভিযোগের পেছনে কারণ থাকলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কারও নেই। কেউ কেউ একটু মুচকি হেসে জানায়, আরে এগুলো লিনাক্স, হ্যাকারদের জন্যে, লিনাক্স এরকমই হয়। এক কাঠি সরেস যারা, তারা লিনাক্সকে অপারেটিং সিস্টেমই দাবী করে বসে। প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা যে খুব কম, তা নয়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড(জনপ্রিয় একটি টেক্সট এডিটর), এক্সএল(একটা স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম) বিশেষজ্ঞ অহরহ এদিকে। তবে দক্ষতা থাকলেও, প্রযুক্তিজ্ঞানে আমরা খুব দুর্বল। অনলাইনে বাংলা কন্টেন্ট সার্চ দিলে হতাশ হতে হয়, রিচার্ড স্টলম্যানকে বিশ্বের সেরা দশ ক্র‍্যাকার, যাদের ওরা হ্যাকার বলে, এর তালিকায় আনা, লিনাক্সকে অপারেটিং সিস্টেম বলা, কালি লিনাক্স নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি এমন অনেক ভুল তথ্য দেখে হতাশ হতে হয়। তবুও লিনাক্স কি, এজাতীয় অনেক লেখা আছে, ভাল ভাল লেখাও আছে কিছু। আমার এ লেখাটিও আলাদা কিছু নয়। আমি কিছু সাধারণ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। অস্বীকার করার জো নেই যে আমার লেখায়ও তথ্যগত ভুল থাকতে পারে। এমন …

অ্যাপল কেন এত বিখ্যাত?

ছবি
অ্যাপল বিলাসিতার প্রতীক। তাদের পণ্যগুলো প্রযুক্তি পণ্যের বুর্জোয়া শ্রেণি। কর ফাঁকি দিয়ে, একচ্ছত্র বাজারে স্বৈরাচারী রাজত্ব করে আর চিনের শ্রমিকদের উপর জুলুম করে ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি আজ অ্যাপল। স্টিভ জবস আর স্টিভ ওজনিয়াকের ১৯৭৬ সালে চালু করা ছোট একটি উদ্যোগ কীভাবে এ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হলো, স্টিভ জবস নামে ওজনিয়াকের সে প্রতারক বন্ধু কীভাবে প্রতারণা করে ওজনিয়াককে ইতিহাস থেকে মুছে শত তরুণের আইডলে পরিণত হলো, তা বুঝতে গেলে বুঝতে হবে অ্যাপলের সাফল্যের গোপন কথা, বিপণন ব্যবস্থা — মার্কেটিং স্ট্র‍্যাট্যাজি। 
১৯৮৫ সালে জবস অ্যাপল ছাড়ার পর, অ্যাপলের কপালের দুর্ভাগ্যরেখা নজরে আসতে থাকে। উইন্ডোজচালিত কমমূল্যের পিসিতে তখন বাজার সয়লাব। এমন এক বাজারে অ্যাপল দূর্বল কৌশল নিয়ে ধোপে টিকেনি। জবসকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হলো তারা।  ১৯৯৬ সালে জবস ফিরেই, অলাভজনক সমস্ত পণ্য বাদ দিয়ে ঢেলে সাজালো পণ্যব্যবস্থা, যার মূলে ছিলো সিম্পলিসিটি আর প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স। উদাহরণস্বরূপ, গুগলের গুগল প্লে মিউজিক, আবার ইউটিউব মিউজিক প্রায় একইধরণের দুটো পণ্য। ইউটিউব রেড আবার গুগল মুভিজ, গুগল হ্যাঙাউট আবার গুগল এলো…

হ্যাক, হ্যাকার কালচার ও আমার ফেসবুকিং

ছবি
১) সকল হ্যাকার, হ্যাকিংপ্রত্যাশী, ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকার স্পেশালিস্ট, লিনাক্স ইন্সটল করে হ্যাকার, কালি নেটহান্টার ফ্ল্যাশ করে হ্যাকার, ডো ডো হ্যাকার, টো টো হ্যাকার, এনোনিমাস গ্রুপের অতীত ও ভবিষ্যৎ সদস্য হ্যাকার, হাউ টু হ্যাক ওয়াইফাই পাস জানা হ্যাকার, হাউ টু নো জিএফ পাস জানা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার হ্যাকার, সাইবার৭১জনিত ফ্যানরোগে আক্রান্ত হ্যাকারসহ, সকলের মানসিক সুস্থতা কামনা করি। এমন বিজাতীয় ব্যক্তিদের থেকে মুক্তির উপায় কি? 
২) রিচার্ড স্টলম্যানের বলা, হ্যাপি হ্যাকিং এর সাথে এ ক্র‍্যাকিং-এর সম্পর্ক সুদর্শনা প্রেমবিদ্বেষী কন্যার সাথে আমার নাকের দূরত্বের মত দূর দূরান্তের সম্পর্ক। বাংলা অনলাইন কন্টেন্টের এ ভয়াবহ দুর্যোগের দিনে, রিচার্ড স্টলম্যান সম্পর্কে এমন ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে চলাফেরা করাই স্বাভাবিক। এক আধটু ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক, অন্তত অনলাইনে পড়াশুনোর ইচ্ছে থাকলে। 
৩) ফেসবুকের এলগরিদমে ভয়ংকর সমস্যা রয়েছে। আমার নিউজফিডে কোন বিপরীত লিঙ্গজাত ছবি আসে না। পরবর্তীতে তাদেরকে এক্টিভ লিস্টে দেখে বুঝি, তারা প্রোফাইল পিকচারও পালটে ফেলেছে। আর তাতে আমার লাভ রিয়েক্ট নেই। বিভ্রান্ত হবেন না, চোখে পড়লে আ…